Skip to content

J

এক

অতিপ্রকৃত নিরব রাতের শেষ প্রহরেও মনে হয়,
এই মুহূর্তে আরাম করে ঘুমানোর চেয়ে
তোমাকে মনে করে জেগে থাকাটা বেশি সুন্দর।
বিশ্রামের আস্তিনে অবাস্তব বিভোর স্বপ্ন দেখার চেয়ে
বিরামহীন তোমার পরাবাস্তব আকৃতি
দেখে দেখে ক্লান্ত হওয়াটা বেশি আরামদায়ক।
মনে হয় এটিএন বাংলায় খবরের শিরোনামে
রাশিয়া-ইউক্রেনের বিধ্বংসি যুদ্ধের চেয়ে
তুমি এখন কেমন আছো সেটা দেখানো বেশি জরুরী।
যুক্তরাষ্ট্রে বাকিংহাম প্যালেসের শতবর্ষী রাণী
দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রয়ানদিবসের চেয়ে
তোমার প্রত্যেকটা জন্মদিন বেশি মহত্বপূর্ণ।
মনে হয় তুমি জন্মেছো তাই জন্মেছে রাত জাগা
কবিতার ছন্দ, সুর-তাল, সৌন্দর্য, মায়া, ঢেউ।
মনে হয় এখানে সবকিছু আকাশের মতো মরিচিকা
কেবল তোমার মধ্যে বসে আছে এক সত্যের মতো কেউ। 


দুই

মনে হয় তোমার নামে কত কিছু বলা দরকার,
কিন্তু কী বলবো জানা নেই!
মনে হয় নতুন খামে কত চিঠি লেখা দরকার,
ডাক পিয়নের বুক পকেটের কতকিছু দেখা দরকার।
ইগোর ঘাড়ে করাত রেখে ‘সরি’ বলা শেখা দরকার,
কিন্তু জীবনের পরওয়ানা নেই!

মনে হয় পুরোনো সব হিসাব নিকাশ বন্ধ করে
নববর্ষের হালখাতাতে নতুন স্বপ্ন থাকা দরকার।
রাগ-অভিযোগ প্যাকেট পুরে যাদুঘরে বন্ধ করে
সুখ-অসুখে পাশে থাকার নীল নকশা আঁকা দরকার।
ম্যাসেঞ্জারে ব্লক দিলে ইচ্ছে মতো উঠিয়ে নিতে
স্নেপের সমান দাপট ওয়ালা যাদুর ছড়ি রাখা দরকার।
অর্ধপূর্ণ প্রনয়কাব্য পূরণ করার ঘাড়ত্যাড়ামি
তোমার কাছে উড়ে যেতে দারুণ একটা পাখা দরকার।
জানা দরকার— যুদ্ধ, প্রেমের কোন দরকারে মানা নেই।


 
তিন

রাত যত ঘনিয়ে আসে, স্বপ্ন গভীর হয়।
অন্ধকারের ভয়ে থরথর করে কাঁপে বাস্তবতার গাও।
বিরামহীন মনখারাপ প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে আস্থার কপাল ছুঁয়ে।

স্বার্থের দৃঢ় ষড়যন্ত্রের তৈরি হয় ত্রিপক্ষীয় রণক্ষেত্র। আমি, তুমি, গোটা পৃথিবী, একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকি সংকল্পের বোঝা নিয়ে। কোথাও কোন ছাড় নেই। সন্ধি, সমঝোতা, বন্ধুত্ব, শ্বেত পতাকার কার্নিশে মুড়ে পুড়ে যায় স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে।

প্রহর যায় প্রহর আসে। মন খারাপের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত অতীতের সিপাহীরা। অস্তিত্বের লাগাম ছেড়ে দিয়ে আমার মন্থর ভবিষ্যত অপেক্ষা করে একটা মুক্তির পয়গামের৷ ব্যাকুল হয়ে জানতে চায়
আমি আমার, না কি তোমার, না কি তৎপুরুষ পৃথিবীর।



চার

তোমারে দেখি না যেন কত যুগ হয়ে গেলো
কত কাল, শতাব্দী, কত গুনো নাই।
নিকটের আকাশ ধরে নিরবে উড়েছো কতো,
কতবার ডেকেছি প্রয়াণে তুমি শুনো নাই।

তোমারে ছুঁয়েছি যেন কত সহস্র সন্ধ্যা ঠেলে
পরিচিত ফুটপাথ, ক্যাফের টেবিলে গেলে,
ফুচকার দোকানিরা ভুলে গেছে সব পাখি,
কেউ আর কোনকিছু জানে না।
তুমিও তো আজকাল মিশেছো ক্ষোভের স্রোতে
বিভূত দুয়ার খুলে আসো না আমার হতে।
নিরাশার যান চেপে কত দূরে বেঁধেছো মন
অতীত কি তোমারে আর টানে না?


 
পাঁচ

এ তোমার স্মৃতির ধাঁধায় অবশ করা তাসের বাগান
ব্যথার ময়ূর পাখনা ছেড়ে ঘর বেঁধেছে প্রায়।
শ্রদ্ধায় বিনীত প্রেম ভাসিয়ে দিলাম তোমার নামে
শাখের সুরে ভীষণ দূরে মাখিয়ে নিও গায়।

আবার যেদিন গৃষ্ম হবে, লোকের ভীড়ে তিক্ত দুপুর
ক্লান্ত লেকের পুরান পথে থামবে নিরালায়।
এ তোমার মন্ত্র মায়ায় লেপ্টে থাকা নখের আছর
অতীতের বাসর ছু’বে আসমানী হতাশায়।



ছয়

নতুন একটা দিন, সাথে নতুন একটা বৃত্ত।
ডালে ডালে মলাট ঘেরা মাংস প্রেমি সস্তা সুবোধ
পাচিল টপকে চোখ তুলে যায় শেষ জীবনের নৃত্য।

আবার যেন ব্যথার প্রেমিক নতুন একটা সুখ দেখে যায়,
কার কপালে কে চুমু খায়,
কার কবিতার ছন্দ ভেঙ্গে কে লেখে সাহিত্য!
নীল কিশোরী সজাগ থেকো, মাছরাঙাদের বড্ড তাড়ায়,
নরম চোখের ক্ষীণ ইশারা আবার তোমার ছিপ নৌকায়
তুলবে পুরান ভৃত্য।

নতুন একটা দিন, তোমার নতুন নতুন স্বপ্ন।
নতুন সুখের চাদর খুলে দিলাম তোমায় আদর তুলে,
নীল কিশোরী দূর সফরে ভালোই থেকো।
ভালোই রেখো নতুন চুলোয় আমার পুরান চিত্ত।


 
সাত

তুমি বিশ্বাস করলে মেঘের পেছনে যেটা নীল রঙের
তার নামই আকাশ, না করলে নয়।
তুমি বিশ্বাস করলে তোমার জন্য
আমার যতো সময়, যাত্রা, ত্যাগ—
সবকিছুতেই প্রেম ছিলো, নয়তো অপচয়।

তুমি মানলে এক পৃথিবীতে শত শত দেশ,
যেখানে সেখানে কাঁটাতার, হাজার নিয়মও মানি।
তোমার বিশ্বাস পুঁজিতন্ত্রের সংবিধান।
ঠিক করে দেয় কত শ্রমিক খেটে খেয়ে বাঁচতে পারে
আর কারখানায় আগুন লাগলে মরবে কতখানি।

তুমি বললে আমিই শেখ হাসিনা, জগদীশ চন্দ্র বসু,
ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিদ্রোহী কবি নজরুল।
তুমি তাকালে তাকিয়ে থাকে আমার সত্য-মিথ্যা-বিশ্বাস।
চোখ ফিরালেই ভুলে যাই পায়ে উলটো পাদুকার মতো ভুল।


 
আট

যখন আমার হারিয়ে যাওয়ার কারণ ছিলো,
অচেনা এক গল্প এসে হারিয়ে যেতে তো দিলো না।
যখন আমায় ভীষণ চিনে সুখ পাখিরা দলেও নিলো,
ওদের সাথে ওড়ার জন্য পাখনাটাই তো ছিলো না!

যখন আমার খরার গল্প ভ্রমের স্রোতে মিলিয়ে গিয়ে
হরেক রকম শূন্য নিয়ে ভুবন-চেড়ার গর্ব হতো!
একটা গল্প শুরু হতে হতে শেষ হয়ে গেলো কতবার,
অথচ এখনো মৃত্যুই বাকি— জন্মানো বাকি কতো! 


নয়

মানিব্যাগের এক কোণায় জড়সড় এক টাকার একটা সিকি।
মূল্য-মানে ছোট হওয়ায় কোথাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
মাথার মধ্যে জমে থাকা শূন্যগুলো এই ‘এক’ এর পেছনে
জুড়তে পারলে হয়তো কিছু একটা করা যেতো।
শ্রাবণ মেঘের আর্তনাদে বিলীন প্রিয়ার বাপ-চাচারা তুষ্ট হয়ে,
হয়তো কিছু ফাগুন পূর্ণ হতো।

তোমাদের গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্রভরা সমাজতান্ত্রিক স্বপ্ন।
দাম্পত্যের যাতাকলে আটফালি যৌবন
আর কবিতার নাকের ডগায় সভ্যতার মিযান—
এক পাল্লায় রেখে দিলাম বিবাহযোগ্যা প্রেমিকার বয়স,
অন্য পাল্লায় হাওলাদারদের প্রাপ্তবয়স্ক দায়িত্ব।

এই নিষ্পাপ প্রভাতের মুখ ছুঁয়ে কথা দিলাম।
কৈশোরে পুষে রাখা একটা স্বপ্নের পেছনে
জুড়ে দিলাম জমে থাকা শূন্যগুলো।
তোমাদের স্বার্থক ভবিষ্যতে স্বপ্নের দুর্যোগে
একদিন আমিও আকাশ কিনবো সিন্ডিকেটের চওড়া দামে।

স্বর্গের সুখ চেপে পিত্রালয়ের থুবরো মুখের সামনে দিয়ে
আমিও একদিন আমার আকাশ তুলে আনবো আমার ঘরে।
আমিও দেখবো তখন মানিব্যাগের এক টাকা কার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়,
এক স্বপ্নের ভার বইতে পয়সাতান্ত্রিক সুখের পেছনে কত স্বপ্ন যুদ্ধ করে।


 
দশ

শুভরাত্রি! শুভরাত্রি!!
মনে রেখো শুভরাত্রি—
এই পর্বে অনেকবারই তাজমহলের ধ্বংসাবশেষ
ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করে মন খারাপ হয়ে যাবে।
মনে রেখো, ফুটপাতে পথশিশুর ভাগ্যের মতো
এই রাতের আপনত্ব বারবার বদলাবে।

মনে রেখো, তোমার প্রাচীন ব্যাথার আওয়াজ
হ্যামিলনে আগুন জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে সুর ধরে।
কিন্তু শুভরাত্রির ডাকঘরে তো ব্যাক্তিত্ব’র ছদ্মবেশে
বড়ো বড়ো গৃহপালিত রেড-উইচ বাস করে।

আমারও তো মনে আছে, শুভরাত্রি কেমন ছিলো!
আমার কাঁধের এইটুকু ছাদ ঘুম পারিয়ে দিতো।
আবার যখন দেখা হবে হয়তো আমায় চেনবেও না।
আমিও দু’বার তাকিয়ে ভাববো, “শুভরাত্রি-ই তো!”

শুভরাত্রি! শুভরাত্রি!!
মনে রেখো শুভরাত্রি— মহাজনের সুখের দাদন ভঙ্গ করে
এই রাতও যদি একলা একা এভাবেই কেটে যায়,
মনে রেখো আরো হাজার রাতও কেটেই যাবে
কোন এক রাতের শুভরাত্রি পাওয়ার আশায়।


 
এগারো

জানো, আমার শুধু তোমারই না,
তোমার খোঁপায় লুকোনো মাথাটার প্রেমও লাগবে।
এই দিঘল লাজুক চোখ, চিবুক,
গালের দাপট থাকুক কিংবা না থাকুক,
আমার কাঁধে তোমার মাথার দাপট
অন্তত সাতশো বছর তো থাকবে!

যখন আমার অলস-মন্দা বছর এলিয়ে চলে
তুমিই এসো’ লক্ষী একটা মাথার মালিক বলে।
যখন আমার ক্লান্ত পথে হারিয়ে যাবার বর্ণ নিয়ে
দূর থেকে যেই চাঁদের সাথে শনির গ্রহণ জাগবে।
যখন আমার বুকের মধ্যে ঈষৎ শূণ্য আবির্ভাবে
বিরল শ্রাবণ হঠাৎ হঠাৎ বিরল কবিতা আঁকবে।
তখন কোন চামড়া, দেহের নরম কামনা নয়
বরঞ্চ সেই মায়ায় মুরোনো কোমল মাথাটা রাখবে।


 
বারো

আপনার পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর মধ্যরাত,
যখন আপনি চোরের ভয়ে দড়জা এঁটে ঘুমোতে যান —
ধরুন একদিন চোরের বদলে আমি এলাম
নির্জনে কবিতা লেখতে।
মুঠোফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে প্রথম দেখায় কী ভাববেন,
আমি চোর, না-কি কবি?
রান্না ঘরের ক্লান্তমতো এলিয়ে থাকা বটি তুলে কুপিয়ে দেবেন,
না-কি অপহৃত সীতার মতো অপেক্ষা করবেন —
কখন আমার কলম চালানো শেষ হবে,
পৃথিবীতে রচিত হবে সবচেয়ে অভূতপূর্ব কবিতাটি!

আমি জানি দ্বিতীয়টি আপনি করবেন না।
এটি করার অভ্যাস আপনার নেই, আর কখনো হবেও না।
এজন্যইতো কবি নিরব। নিঃশব্দে দড়জা ভেঙ্গে
কখনোই ঢোকার সাহস করে না
আপনার একান্ত মধ্যরাতে।


 
তেরো

এই রাতকে আমি গালি দিলাম।
নির্ঘুম চোখ দু’টোকেও আমি গালি দিলাম।
গালি দিলাম সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে পরীক্ষা,
বিরক্তিকর লেকচার, বিজয় সারণীর দুর্গম যানজট,
দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ, দুঃস্বপ্ন, দুর্দিনকে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং, রাশিয়ার দাদাগিরি, জ্বালানি সংকট,
দ্রব্য-মূল্যের উর্ধ্বগতি, সিন্ডিকেট, ক্যাম্পাসের অধপতন,
ফ্যামিলির টেটাযুদ্ধ, বেকারত্বের এলার্জি
সবকিছুকে গালি দিলাম।
যেসব দুশ্চিন্তায় আমি রাতের পর রাত
জেগে থেকে প্রহরকে গালি দেই,
আজকে সবাইকে গালি দিলাম, শুধু তোমাকে ছাড়া।
আমার কাছে তুমি অপ্রাপ্তবয়ষ্ক, নিষ্পাপ শিশু।
যতই ভুল করুক, শিশুদের গালি দেওয়ার নিয়ম নাই।


 
চৌদ্দ

পুরোনো এক ভয়,
কখন যেন জীবনের সাথে যৌবনের ভুল হয়।

এই যে পৃথিবী, আমার আদালত।
আমার অপরাধ, আমি অপরাধী।
আমি বিচারক, আমি শাস্তি, আমি কারাগার।
এই বিচ্ছেদে এই দুই মন জুরে সংশয়।
আমি প্রাণ খুলে কারে ভালোবাসি
আর প্রাণ দিয়ে করি কারে পারাপার।

এই সুখ পেতে যেই বিদ্রোহ, যেই সংগ্রাম, যেই হরতাল।
এই কাঁটা দাগখানি মুছে যাবে কভু, ব্যথা রয়ে যাবে চিরকাল।
এই প্রেমিকার বুকে স্বার্থের ছুড়ি ভেদ করে গেছে আসমান।
তবুও তো বারবার ফিরেছি আগুন নিয়ে
জল ঢেলে মরুভূমি করে গেছি বেমানান।

এই সোনালী রজনী খুলে হাওয়ায় লিখেছি ব্যথা
কথারা চেয়েছে আমারে প্রেম দিন প্রেম দিন।
মুনাফা আসল মিলে সব চুকিয়ে দেবো,
সব স্মৃতি, ভালোবাসা, বুকের জমানো ঋণ।


পনেরো

যেই কবিতার পুরান কথায়
পঙক্তি ছিলো গোপন ভাবে ভরা,
হয়তো কোথাও হারিয়ে গেছে,
চোর বাজারে তুলেছে কেউ
দাম পেয়েছে চড়া!

যেই চাহিদার লেবাস ধরে
এলোমেলো আবেগ ছিলো,
তুমুল প্রেমের নকশা ছিলো গড়া।
অনেকে তার ভাগ চেয়েছে,
এখন হয়তো পাবেও বটে!
হিসেব শেষে আমার বুকেই
ব্যথার শেকল পরা।


 
ষোলো

আমি জানি, আজকে আপনি সেজে আসেননি,
এজন্য বারবার মাস্ক পরছেন,
আমাকে প্রেমে পড়তে বাঁধা দিচ্ছেন।

আমি জানি,
আপনি যে কত সুন্দর, আপনি সেটা জানেনই না!
আপনি প্রায়ই ভুলে যান, একজন মানুষ আপনার চোখে পৃথিবীর প্রায় সকল সুন্দর খুঁজে পায়।
প্রায়ই ভুলে যান, আপনার চেহারা দেখে একজন মানুষ
সারা জীবন ভালো থাকার স্বপ্ন দেখে।

আপনি আজকেও ভুলে গেছেন,
আমি আপনার সাজুগুজুর জিনিশপত্রকে না,
শুধু আপনাকে ভালোবাসি।
টিপ কাজল, লিপ্সটিক, জামাকাপড়, থাকুক বা না থাকুক, আমি আপনাকে ভালোবাসি। এবং প্রচন্ড ভালোবাসি। 
সতেরো
স্বল্পবোধ্য জরুরী আমায় খুলে রাখি সম্ভাবনার রাস্তায়— অসম্ভব মানবতার দেওয়ালে।
ব্যপক আগ্রহে অজানা কেউ নিয়ে যায় নিজস্ব প্রয়োজনে,
তাতে আমার দাবী নেই।
এই স্ক্রিনের আলো যখন বন্ধ হয়ে যায়,
যখন কথা বলার কোন তুমি থাকে না, আমি একা হয়ে যাই।
যখন মন খারাপে চোখ রসালো হয়ে উঠে,
তোমায় ভীষণ মনে পড়ে প্রায়ই ভীমড়ি খাই।
যখন তোমাকে আমার সবচেয়ে বেশি দরকার কিন্তু পাই না। তখন আমারও তারা গুনে রাত কাটাতে হয়,
কিচ্ছু করার থাকে না।
বিচ্ছিরি আকাশটা ব্যাপক সুন্দর লাগে,
আমি কবি হয়ে উঠি।


 
আঠারো

আমি হারাইনি কোথাও, তবু নিজের সাথে নেই।
আমার যৌবনের স্যুটকেস জুড়ে জুবুথুবু গোপন স্বপ্ন
অম্লেটের কুসুম চাহিদা বিপন্ন করবেই।

আমার রাত ভর্তি ঘুম ছিলো প্রত্যেকটা স্টপেজে,
অভ্যাসের চোখ ভর্তি বিভৎস ক্ষুদা ছিলো।
অযুহাতের লেপ-কাঁথায় নিরন্তর স্বীকৃতি।
লিপিবদ্ধ সুখের বদলে অনবদ্য তোমায় পেয়েছি,
চিরবদ্ধ তোমার বদলে বিচ্ছেদের বিস্তৃতি।

আমার ছন্দভর্তি মাথায় কৈফিয়তের আগুন লেগেছে। শেকলের-ঘুন প্রেম কেটে কেটে,
বিরক্তির ছদ্মবেশে মুগ্ধ হওয়াটা বন্ধ।
তোমাকে পেয়ে যাওয়ার লোভে তেইশ বছর পূর্ণ হয়েছে,
কত কিছু চূর্ণ হয়েছে।
তবুও এক জীবনে বুঝি নাই তুমি কবিতা, নাকি ছন্দ।


 
উনিশ

কী অদ্ভুৎ— এক পৃথিবীর আকাশে একটা চাঁদই যথেষ্ট,
তবুও রাতের ভাগ্য ভালো না জ্যোৎস্না ফোটেনি বলে।
রাষ্ট্রপতির অভিমান জুড়ে মন খারাপের দোষ নেই,
আমার-ই কী দোষ কবিতারা যদি দ্রোহের আগুনে জ্বলে!

কী অদ্ভুৎ— ভালোবাসা হয়ে নিউরন থেকে নিউরনে
প্রেম বনে আছো সময়, চামড়া, অঙ্গে।
কিন্তু আকাশ যেমন এই পৃথিবীর কেউ না,
বিচ্ছিন্ন— আমিও বোধহয় আকাশ তোমার সঙ্গে।

কঠিন আঁধারে জোনাকির কথা বিজ্ঞানের মত অসহায়।
তুমিও শোননি যেই ধ্বনি ছিলো পাহাড়ের দেহে বাকি।
কী অদ্ভুৎ হয়ে জ’মে গেছি যখন ভেসে থাকার চুক্তি ছিলো
একুশ বছরেও বুঝিনি আমি পাহাড় না—কি জোনাকি।

স্নায়ুর ভেতরে রাসায়নিক ঘুর্ণিঝড়, কেউ দেখেনি।
অথচ সবাই সিম্প্যাথি দেয় ভাঙা(!) হৃদয়ের কাছে।
কী অদ্ভুৎ— তোমার অভাবে মস্তিষ্কটা বিকৃত হয়ে গেছে,
অথচ এখনো মানুষের দেখা হৃদপিণ্ড ভালো আছে!

পৃথিবীর মানুষেরা একদম তোমার মত।
ভুলে যায় কত সত্য—
মনে রাখে যেই সত্য ভুলে যেতে হবে।
কী অদ্ভুৎ হয়ে ভাবতাম বুঝি তুমি অন্তত আমার।
অথচ তুমি যে আমার না সেটা অদ্ভুৎ ছিলো কবে!


 
বিশ

যদি একদিন রাতেরও অসুখ হয়,
ছিঁড়ে ফেলা চাঁদের অংশ পড়ে ফেটে যায় প্রেমিকার বুক!
যদি সীমান্তের কাঁটাতার গলে যায়,
চোর-চামচিকা পুলিশের পোষাকে ঢেকে নেয় চেনা মুখ!

যদি তারপিনে ভেজানো একটা তুলি—
রঙ করার অযুহাতে বারবার চলে আসে
আমার ব্যক্তিগত আকাশের দিকে।
রোদের ফাল্গুনে ঘামাচি হয় তনু-তপ্ত কারিগিরের কলিজায়।
যদি স্মৃতির তাকে সাজানো ভুলগুলি—
মই ছাড়া উঠে আসে করুণ মস্তকে।
কৃষক-দালালে ভালো থাকার চুক্তি করে,
প্রচণ্ড আহ্লাদে মাটির কান্না ‘জমি’ হয়ে যায় অনিহায়।

যদি যৌবনের আগুন স্বপ্ন পুড়িয়ে ধুমপান করে,
আমি উন্মাদ হয়ে রাতের গল্প খাই।
আদবে নুয়ে পড়া তৈলশিল্পীর জিহ্বা রাষ্ট্রযন্ত্রের সংবিধান আর হতাশার জ্বরে প্রাণ জ্বলে-পুড়ে ছাঁই।

তবুও কি কেউ জানবে?
‘মসব তুমি কেমন আছো’ বলে বুকের চাহিদা মানবে?
আমি একবার ‘আমি’ হয়ে যেতাম ভালো বেসে—বেসে।
তখনো কী কেউ কবি’দের মানুষ ভাববে না!
প্রেমিকার রাগ ভেঙ্গে কবিতার শেষ-ছন্দ পূর্ণ হবে কি শেষে!


 
একুশ

আমি একদিন সত্যি সত্যি হেসে ফেলবো।
যেদিন উচ্চ আদালতে প্রমাণিত হবে কপাল আসলে নির্দোষ। কোকিল কাকের-আবেগ বুঝে ফেলায়
অতিপ্রাণিত হবে বাকরূদ্ধ কবি’রা।
যেদিন কিছু পাওয়ার জন্য
কিছু দেওয়া আর বাধ্যতামূলক থাকবে না,
অযোগ্যতার দুর্নাম থেকে মুক্তি পাবে পরিস্থিতির ছবি’রা।

যেদিন প্রাণবন্ত ঠোঁটের আড়ালে
জমে যাওয়া টর্নেডোর চাপ থাকবে না,
সেদিন আমি সত্যি সত্যি হেসে ফেলবো।

সেদিনের ‘ভালো আছি’— মানে সত্যিই ভালো আছি।
‘শুভ—রাত্রি’র পরে আর রাত জেগে
কবিতার সাথে ‘অশুভ’ কল্পনার আড্ডা হবে না।
যেদিন কৃষ্ণচূড়াও গোলাপের মর্যাদা পাবে।
প্রেম দৃঢ় হয়ে বিপ্লবের মত উজ্জ্বল
ভালোবাসার কোথাও কোন নিয়ম-কানুন র’বে না।
সেদিন একদম সত্যি সত্যি হাসবো।
সেই হাসিতে কোন অভিনয় থাকবে না, কথা দিলাম। 


বাইশ

কতদিন বলা হয়নি —
ভালোবাসি!
কতদিন বলা হয়নি
পৃথিবীতে কত ব্যস্ত হতাশা,
চলো একবার
ভালোবাসা থেকে ঘুরে আসি!


 
তেইশ

আমিও বলেছিলাম,
আরেকবার ভেবে দেখো, থাকা যায় কি না!
আরেকবার ভেবে দেখো, তোমাকে আমার দরকার
এবং ভীষণভাবে দরকার!

ভেবে দেখো, বৃষ্টি এলেই মনে পড়বে,
একলা ছিলাম- হাত ধরেছি, গান গেয়েছি।
কৃষ্ণচূড়ার রক্ত মাখা হিমেল চরণ মুচড়ে গিয়ে
আমার হাতে এলিয়ে ছিলে; ভ্রান্ত নীলে,
আমার কাঁধে কান রেখেছো, প্রাণ পেয়েছি।
বলেছিলাম, ভেবে দেখো, তোমারও কিন্তু কষ্ট হবে!
ঘুমোতে গেলে ভীষণ ভাবে মনে পড়বে।
তোমার চুলের খোঁপার ভাঁজে আমার হাতের সুপ্ত গন্ধ
অন্তত এ জনম তো আটকে র’বে!

ভেবে দেখো, তোমার-আমার পুরোনো সেই রাস্তা দিয়ে
সকাল সন্ধা- যখন তুমি কলেজ যাবে,
একটুও কি থ- খাবে না? মন চা’বে না,
ফোনটা তুলে… বেঁচে আছি? তখনো কি শান্তি পাবে?

চেয়েছিলাম ভেবে দেখো, প্রভুর দেওয়া ছোট্ট জীবন।
একটু না হয় মান-অভিমান,
রাগটা থাকুক, বিদায় কেন!
সময় কেন মিলিয়ে যাবে দুঃখের ফাঁকে!
আরেকবার ভেবে দেখো —
যাওয়ার কারণ হাজার হলেও একটি কারণ থাকার পেলে থেকে যাওনা!
দেখে যাও না মরার আগে
ভালোবাসায় জীবন কেমন আটকে রাখে!


 
চব্বিশ

কামিনীর দারুণ গন্ধে বয়স ফুরোয়।
যুগ থেকে যুগান্তরে সময় এবং স্রোত হয়তো কারোর জন্য অপেক্ষা করে না, কিন্তু সত্য ঠিকই করে।

আলোয় ছড়ানো অন্তিম পদস্খলন প্রায়শই মিশে যায় অন্ধকারের এথেন্সে। তখনো অপার ধৈর্যের বাঁধ এঁটে সত্য অপেক্ষা করে একটা সুন্দর চোখের জন্য। ডিসেম্বরের পয়গামে যেই চোখ এক পলকে বদলে দেবে কবিতার প্রেক্ষাপট, বিলেতের সমাদৃত ইতিহাস অথবা মর্মাহত প্রেমিকার এক-কোটি পাইকারি অভিযোগ।

নিরঙ্কুশ প্রেরণায় শান্তির অভাবনিয় শৈলি —
ধীরে ধীরে কতো অঙ্গ কাছে আসে নির্জনে,
চোখ ভেবে কতজনে কতকিছু দেখানো হয় কতবার!
মনে হয় অন্ধত্বের ত্রাস-রাহু ভালোভাবে বসে গেছে পৃথিবীর সবখানে। ভাজ করা তর্জনীর পেট চিরে অনিশ্চয়তার লাল গোলাপ। আর পরিচিত দৃষ্টিকোণের পথ চেয়ে হয়তো শেষ অবধি থেকে যাবে সত্যের অপেক্ষা।


 
পঁচিশ

তুমি সব সময় বলতে —
আমি শুধু নিজের ভালোই দেখি।
চলে যাওয়ার জেদ ধরলেই পাগলের মত বলি —
যেও না প্লিজ, তোমাকে আমার দরকার।

এখন আমি তোমার ভালোও দেখছি।
যেতে চাচ্ছো— ছেড়ে দিচ্ছি, চলে যাও।
আটকাবো না ইচ্ছে হলেও অনেক বার।


 
ছাব্বিশ

Moments, to swallow the day.
Lost a lot, to lose and say.
I met the stars blowing off,
left the truth to end in a way.

I left the snow burn with the sun.
I let her find the way to be none.
I named the priceless bird to go,
twirl in the sky and sell me to pay.


শুভ জন্মদিন, Create a website or blog at WordPress.com
Privacy & Cookies: This site uses cookies. By continuing to use this website, you agree to their use.
To find out more, including how to control cookies, see here: Cookie Policy
  • Subscribe Subscribed
    • শুভ জন্মদিন
    • Already have a WordPress.com account? Log in now.
    • শুভ জন্মদিন
    • Subscribe Subscribed
    • Sign up
    • Log in
    • Copy shortlink
    • Report this content
    • View post in Reader
    • Manage subscriptions
    • Collapse this bar
 

Loading Comments...
 

    Design a site like this with WordPress.com
    Get started